পরিচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তি যখন কোন সালাতে ত্রুটি করে, তখন তার আমলনামায় কিছু সালাতের কমতি লিপিবদ্ধ করা হয়
১৮৮৬. আবূ বকর বিন আব্দুর রহমান বিন হারিস বিন হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করেন অতঃপর তিনি তা হালকা করে আদায় করেন। তখন আব্দুর রহমান বিন হারিস তাকে বলেন, হে আবুল ইয়াকযোন, আমি আপনাকে দেখলাম যে, আপনি সালাত হালকা করে আদায় করলেন!” তখন তিনি বলেন, “আমি সালাতে ওয়াসওয়াসা আসার আগেই তা সম্পন্ন করলাম। নিশ্চয়ই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষ সালাত আদায় করে, অথচ তার জন্য সালাতের অংশ থাকে এক দশমাংশ অথবা এক নবমাংশ অথবা এক অষ্টমাংশ অথবা এক সপ্তমাংশ অথবা এক ষষ্ঠাংশ এভাবে তিনি এক সংখ্যা পর্যন্ত বলেন।”[1]
আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “অপরিপক্ক ইলমের অধিকারী ব্যক্তি এই হাদীসের বিষয়ে এই সংশয়ের শিকার হন যে, হাদীসটি হয়তো মু্ত্তাসিল নয়; মুসফাসিল বা বিচ্ছিন্ন সানাদের। অথচ ব্যাপারটি এমন নয়। কেননা উমার বিন আবূ বকর এই হাদীসটি তার দাদা আব্দুর রহমান বিন হারিস বিন হিশামের মাধ্যমে আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর থেকে শ্রবণ করেছেন, যা উবাইদ বিন উমার বর্ণনা করেছেন। কেননা উমার বিন আবূ বকর বাহ্যত সরাসরি আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে শ্রবণ করেননি।”
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ হাসান বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৭৬১)
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْمَرْءَ يُكتب لَهُ بَعْضُ صَلَاتِهِ إِذَا قصَّر فِي الْبَعْضِ الْآخَرِ
1886 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدٌ الْمَقْبُرِيُّ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بن هشام عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ عَمَّارَ بْنَ يَاسِرٍ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَخَفَّفَهُمَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ: يَا أَبَا الْيَقْظَانِ أَرَاكَ قَدْ خَفَّفْتَهُمَا قَالَ: إِنِّي بَادَرْتُ بِهِمَا الْوَسْوَاسَ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم يقول (إِنَّ الرَّجُلَ لِيُصَلِّي الصَّلَاةَ وَلَعَلَّهُ لَا يَكُونُ لَهُ مِنْهَا إِلَّا عُشرها أَوْ تُسعها أَوْ ثُمنها أَوْ سُبعها أَوْ سُدسها) حَتَّى أَتَى على العدد.
الراوي : أَبُو بَكْرِ بْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بن هشام | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 1886 | خلاصة حكم المحدث: صحيح ـ ((صفة الصلاة)) / المقدمة، ((صحيح أبي داود)) (761).
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: هَذَا إِسْنَادٌ يُوهِمُ مَنْ لَمْ يُحْكِمْ صِنَاعَةَ الْعِلْمِ أَنَّهُ مُنْفَصِلٌ غَيْرُ مُتَّصِلٍ وَلَيْسَ كَذَلِكَ لِأَنَّ عُمَرَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ عَلَى مَا ذَكَرَهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لِأَنَّ عُمَرَ بن بي بَكْرٍ لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْ عَمَّارٍ عَلَى ظَاهِرِهِ.
পরিচ্ছেদঃ কোন ব্যক্তি যখন কোন সালাতে ত্রুটি করে, তখন তার আমলনামায় কিছু সালাতের কমতি লিপিবদ্ধ করা হয়
১৮৮৭. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাসজিদে প্রবেশ করেন, অতঃপর এক ব্যক্তি মাসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করেন। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বসেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, “তুমি ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো। কেননা তুমি সালাত আদায় করনি।” এভাবে তিনি তিনবার এরকম করেন। অতঃপর সে ব্যক্তি বলেন, “ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে হক সহ পাঠিয়েছেন, আমি এর চেয়ে ভালো সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই আপনি আমাকে শিক্ষা দিন (আমি কিভাবে সালাত আদায় করবো)।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর দিবে এবং কুর‘আন থেকে যা তোমার জন্য সহজ হয়, তা পাঠ করবে।তারপর রুকূ‘ করবে, এমনকি রুকূ‘ অবস্থায় প্রশান্ত হবে। তারপর রুকূ‘ থেকে মাথা উত্তোলন করবে এমনকি সোজা হয়ে দাঁড়াবে। তারপর সাজদা করবে এমনকি সাজদায় প্রশান্ত হবে। তারপর মাথা উত্তোলন করবে এমনকি বসা অবস্থায় প্রশান্ত হবে। পুরো সালাতেই তুমি এরকমই করবে।”[1]
আবূ হাতিম ইবনু হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী “কুর‘আন থেকে যা তোমার জন্য সহজ হয়, তা পাঠ করবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূরা ফাতিহা পাঠ করা এবং তাঁর বাণী “তুমি ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো। কেননা তুমি সালাত আদায় করনি” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সালাত আদায়কারী সেই সাহাবীর সালাতকে নাকচ করা, কেননা সালাতে তার উপর যা আদায় করা ফরজ ছিল, তা আদায়ে কমতি ছিল; এর দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে, সে সালাত আদায় করেনি। সুতরাং তার কর্ম যখন পরিপূর্ণ অবস্থা থেকে কমতি ছিল, তখন তার ব্যাপারে তিনি পুরো সালাতকেই নাকচ করে দিয়েছেন।”
হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহ আবূ দাঊদ: ৮০২)
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْمَرْءَ يُكتب لَهُ بَعْضُ صَلَاتِهِ إِذَا قصَّر فِي الْبَعْضِ الْآخَرِ
1887 - أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَعْشَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَجَلَسَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ) حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَقَالَ الرَّجُلُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَعْرِفُ غَيْرَ هَذَا فعلِّمني قَالَ: (إِذَا قُمْتُ إِلَى الصَّلَاةِ فَكَبِّرْ وَاقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جالساً وافعل ذلك في صلاتك كلها)
الراوي : أَبُو هُرَيْرَةَ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 1887 | خلاصة حكم المحدث: صحيح ـ ((الإرواء)) (1/ 321/289)، ((صحيح أبي داود)) (802)
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (وَاقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ) يُرِيدُ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ
وَقَوْلُهُ: (ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ) نَفَى الصَّلَاةَ عَنْ هَذَا الْمُصَلِّي لِنَقْصِهِ عَنْ حَقِيقَةِ إِتْيَانِ مَا كَانَ عَلَيْهِ مِنْ فَرْضِهَا لَا أَنَّهُ لَمْ يُصَلِّ فَلَمَّا كَانَ فِعْلُهُ نَاقِصًا عَنْ حَالَةِ الْكَمَالِ نَفَى عَنْهُ الِاسْمَ بِالْكُلِّيَّةِ.