উসূলে ফিক্বহ (ফিক্বহের মূলনীতি) শর্তহীন ও শর্তযুক্ত (المُطلَق والمقَيَد) শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) ১ টি

مطلق এর সংজ্ঞা: আভিধানিকভাবে مطلق শব্দটি مقيد এর বিপরীত।

مطلق এর পারিভাষিক অর্থ:

ما دل علي الحقيقة بلا قيد

‘‘مطلق হলো যা কোনরূপ শর্ত ছাড়াই কোন حقيقة বা বাস্তবতার উপর প্রমাণ করে। যেমন আল্লাহর বাণী:

فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا

‘‘তাদের কাফফারা এ একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসকে মুক্তি দিবে (সূরা আল-মুজাদালাহ ৫৮:৩)।’’[1]

সুতরাং আমাদের বক্তব্য: ما دل علي الحقيقة (যা কোন حقيقة বা বাস্তবতার উপর প্রমাণ করে) এ অংশ দ্বারা عام বিলুপ্ত হয়েছে। কেননা, এটি عموم এর উপর প্রমাণ করে, শুধুমাত্র শর্তহীন বা সাধারণ বাস্তবতার উপর নয়।

আমাদের বক্তব্য: بلا قيد (কোনরূপ শর্ত ছাড়াই) এ অংশ দ্বারা مقيد বিলুপ্ত হয়েছে।

مقيد- এর সংজ্ঞা: مقيد এর আভিধানিক অর্থ: উট বা অনুরূপ কোন প্রাণী যাকে বেড়ী পরানো হয়। পরিভাষায় مقيد বলা হয়:

ما دل علي الحقيقة بقيد.

‘‘مقيد হলো যা কোন শর্তের সাথে حقيقةবা বাস্তবতার উপর প্রমাণ করে।’’

যেমন আল্লাহর বানী :

فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ.

‘‘সে একজন মু‘মিন ক্রীতদাস মুক্ত করবে।’’

আমাদের বক্তব্য: بقيد (কোন শর্তের সাথে) এ শব্দ দ্বারা مطلق বিলুপ্ত হয়েছে।

العمل بالمطلق -মুতলাক অনুযায়ী আমল করা

মুতলাক দলীলকে শর্তহীনভাবেই আমল করা ওয়াজিব। তবে মুতলাককে مقيد করে দেয়, এমন দলীল পাওয়া গেলে, (তখন সেভাবেই আমল করতে হবে)। কেননা, কুরআন ও হাদীছের ভাষ্যের মর্মার্থ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজীব। যতক্ষণ না তা থেকে ভিন্নতর কোন দলীল পাওয়া যায়।

যখন কোন مطلق ও مقيد ভাষ্য বর্ণিত হয়, তখন উভয়টির হুকুম একই হলে مقيد দ্বারা مطلق কে مقيد করা ওয়াজীব হবে। অন্যথায় (হুকুম এক না হয়ে ভিন্ন ভিন্ন হলে) مطلقও مقيد প্রত্যেকটি যে মর্মে বর্ণিত হয়েছে তদানুযায়ী আমল করা হবে।

مطلق ও مقيد উভয়টির হুকুম একই হওয়ায় উদাহরণ হলো যিহারের[2] কাফফারা প্রসঙ্গে আল্লাহর বলেন,

فتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا

‘‘তাদের কাফফারা এই একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসকে মুক্তি দিবে (সূরা আল-মুজাদালাহ ৫৮:৩)।’’

হত্যার কাফফারা প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,

فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ.

‘‘সে একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে (সূরা আন-নিসা ৪:৯২)।’’

এখানে উভয় ক্ষেত্রে হুকুম একই আর তা হলো দাসমুক্ত করা। তাইظهار এর মুতলাক বা শর্তহীন কাফফারাকে হত্যার শর্তযুক্ত কাফফারা দ্বারা مقيد করা হবে।

অতএব, উভয় কাফফারা আদায়ের ক্ষেত্রে দাসের মধ্যে ঈমান থাকা শর্ত।

مطلق ও مقيد উভয়টির হুকুম ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার উদাহরণ: আল্লাহর বাণী:

وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا

‘‘যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও’’ (সূরা আল-মায়িদা ৫:৩৮)।

অপর দিকে ওযু সম্পর্কে তার বাণী:

فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ

‘‘তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত করো’’(সূরা আল-মায়িদা ৫:৬)।

এখানে উভয় ক্ষেত্রে হুকুম ভিন্ন ভিন্ন। প্রথমটি হাত কাটা আর দ্বিতীয়টিতে হাত ধোয়া। কাজেই দ্বিতীয়টির দ্বারা প্রথমটি مقيد করা যাবে না। বরং এটি مطلق এর উপরই বহাল থাকবে। সুতরাং হাত কাটার বিধানটি কবজি পর্যন্ত হবে আর হাত ধোয়ার বিধান কনুই পর্যন্ত হবে।[3]

[1]. অত্র আয়াতটি যিহারের কাফফারা প্রসঙ্গে সাধারণ ভাবে দাস মুক্ত করতে বলা হয়েছে। এতে দাসের ক্ষেত্রে মুসলিম বা অমুসলিম হওয়ার কোন শর্ত করা হয়নি।

[2]. যিহার হলো স্ত্রীর কোন অঙ্গকে মা, মেয়ে, কন্যা, বোন এরকম কোন মাহরাম নারীর অঙ্গের সাথে তুলনা করা।

[3]. অর্থাৎ প্রথম হাত কাটার বিধানটি মুতলাক বা শর্তহীন ভাবে এসেছে। আয়াতে উল্লেখ নাই হাত কোন পর্যন্ত কাটতে হবে। পরের আয়াতে হাত ধোয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে মুকাইয়্যাদ বা শর্তযুক্ত ভাবে। অর্থাৎ কুনই পর্যন্ত। এখানে ‍দ্বিতীয় আয়াত দ্বারা প্রথম আয়াতকে শর্তযুক্ত করে বলা যাবে না যে, হাত কুনই পর্যন্ত কাটতে হবে। কেননা, উভয় আয়াতের হুকুম আলাদা। প্রথম আয়াতে হাত কাটা আর দ্বিতীয় আয়াতে হাত ধোয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। তাই উভয় আয়াতকে আলাদা আলাদা ভাবে আমল করতে হবে। দ্বিতীয় আয়াত অনুসারে কুনই পর্যন্ত হাত ধোয়া হবে। হাদীছের নির্দেশনা অনুসারে কব্জি পর্যন্ত হাত কাটা হবে।