بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৯৩ সূরাঃ আদ-দুহা | Ad-Dhuha | سورة الضحى - আয়াত সংখ্যাঃ ১১ - মাক্কী
৯৩:১ وَ الضُّحٰی ۙ﴿۱﴾

কসম পূর্বা‎‎হ্নের, আল-বায়ান

সকালের উজ্জ্বল আলোর শপথ, তাইসিরুল

শপথ পূর্বাহ্নের। মুজিবুর রহমান

১. শপথ পূর্বাহ্ণের,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১। শপথ পূর্বাহ্নের (দিনের প্রথম ভাগের)। [1]

[1] ضُحى পূর্বাহ্ন বা চাশতের অক্ত্ ঐ সময়কে বলা হয়, যখন (সকালে) সূর্য একটু উঁচুতে ওঠে। কিন্তু এখানে উদ্দেশ্য পূর্ণ দিন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৩:২ وَ الَّیۡلِ اِذَا سَجٰی ۙ﴿۲﴾

কসম রাতের যখন তা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। আল-বায়ান

রাতের শপথ যখন তা হয় শান্ত-নিঝুম, তাইসিরুল

শপথ রাতের যখন ওটা সমাচ্ছন্ন করে ফেলে; মুজিবুর রহমান

২. শপথ রাতের যখন তা হয় নিঝুম(১)-

(১) এখানে سَجَىٰ এর আরেকটি অর্থ হতে পারে। আর তা হলো, অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া। এখানে দিনের আলো ও রাতের নীরবতা বা অন্ধকারের কসম খেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হয়েছে, আপনার রব আপনাকে বিদায় দেন নি এবং আপনার প্রতি শক্রিতাও পোষণ করেন নি। একথার জন্য যে সম্বন্ধের ভিত্তিতে এই দুটি জিনিসের কসম খাওয়া হয়েছে তা সম্ভবত এই যে, রাতের নিঝুমতা ও অন্ধকারাচ্ছন্নতার পর দিনের আলোকমালায় উদ্ভাসিত হওয়ার মতই যেন বিরতির অন্ধকারের পর অহী আগমনের আলো উদ্ভাসিত হয়েছে। [বাদা’ইউত তাফসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২। শপথ রাত্রির; যখন তা সমাচ্ছন্ন করে ফেলে। [1]

[1] سَجَى শব্দের অর্থ হল নিঝুম হওয়া। অর্থাৎ, যখন রাত্রি নিঝুম হয়ে যায় এবং তার অন্ধকার পূর্ণরূপে ছেয়ে যায়। যেহেতু তখনই প্রত্যেক জীব স্থির ও শান্ত হয়ে যায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৩:৩ مَا وَدَّعَکَ رَبُّکَ وَ مَا قَلٰی ؕ﴿۳﴾

তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি। আল-বায়ান

তোমার প্রতিপালক তোমাকে কক্ষনো পরিত্যাগ করেননি, আর তিনি অসন্তুষ্টও নন। তাইসিরুল

তোমার রাব্ব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি। মুজিবুর রহমান

৩. আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেন নি(১) এবং শক্ৰতাও করেন নি।

(১) এ অনুবাদটি অনেক মুফাস্‌সির করেছেন। [মুয়াস্‌সার, জালালাইন] এখানে ودع এর আরেকটি অর্থ হতে পারে, আর তা হলো, বিদায় দেয়া। [ফাতহুল কাদীর, আদওয়াউল বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি। [1]

[1] যেমন কাফেররা মনে করছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৩:৪ وَ لَلۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لَّکَ مِنَ الۡاُوۡلٰی ؕ﴿۴﴾

আর অবশ্যই তোমার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উত্তম। আল-বায়ান

অবশ্যই পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে তোমার জন্য হবে অধিক উৎকৃষ্ট। তাইসিরুল

তোমার জন্য পরবর্তী সময়তো পূর্ববর্তী সময় অপেক্ষা শ্রেয় বা কল্যাণকর। মুজিবুর রহমান

৪. আর অবশ্যই আপনার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে শ্রেয়।(১)

(১) এখানে الآخِرَة এবং الْأُولَىٰ শব্দদ্বয়ের প্রসিদ্ধ অর্থ আখেরাত ও দুনিয়া নেয়া হলে এর ব্যাখ্যা হবে যে, আমি আপনাকে আখেরাতে নেয়ামত দান করারও ওয়াদা দিচ্ছি। সেখানে আপনাকে দুনিয়া অপেক্ষা অনেক বেশী নেয়ামত দান করা হবে। [ইবন কাসীর]

তাছাড়া الآخِرَة কে শাব্দিক অর্থে নেয়াও অসম্ভব নয়। অতএব, এর অর্থ পরবর্তীর্ণ অবস্থা; যেমন الْأُولَىٰ শব্দের অর্থ প্রথম অবস্থা। তখন আয়াতের অর্থ এই যে, আপনার প্রতি আল্লাহর নেয়ামত দিন দিন বেড়েই যাবে এবং প্রত্যেক প্রথম অবস্থা থেকে পরবর্তী অবস্থা উত্তম ও শ্রেয় হবে। এতে জ্ঞানগরিমা ও আল্লাহর নৈকট্যে উন্নতিলাভসহ জীবিকা এবং পার্থিব প্রভাব-প্রতিপত্তি ইত্যাদি সব অবস্থাই অন্তর্ভুক্ত। আর আপনার জন্য আখেরাত তো দুনিয়া থেকে অনেক, অনেক বেশি উত্তম হবে। [সা’দী]

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ছাটাইতে শোয়ার কারণে তার পার্শ্বদেশে দাগ পড়ে গেল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমাদেরকে অনুমতি দিলে আমরা আপনার জন্য একটি কিছু তৈরী করে দিতাম যা আপনাকে এরূপ কষ্ট দেয়া থেকে হেফাজত করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমার আর এ দুনিয়ার ব্যাপারটি কি? আমি ও দুনিয়ার উদাহরণ তো এমন যেমন কোন সওয়ারী কোন গাছের নীচে বিশ্রামের জন্য আশ্রয় নিল তারপর সেটা ছেড়ে চলে গেল।” [ইবনে মাজাহঃ ৪১০৯, মুসনাদে আহমাদঃ ১/৩৯১]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। অবশ্যই তোমার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময় অপেক্ষা অধিক শ্রেয়।[1]

[1] অথবা অবশ্যই তোমার জন্য পরকাল ইহকাল অপেক্ষা শ্রেয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৩:৫ وَ لَسَوۡفَ یُعۡطِیۡکَ رَبُّکَ فَتَرۡضٰی ؕ﴿۵﴾

আর অচিরেই তোমার রব তোমাকে দান করবেন, ফলে তুমি সন্তুষ্ট হবে। আল-বায়ান

শীঘ্রই তোমার প্রতিপালক তোমাকে (এত নি‘মাত) দিবেন যার ফলে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাবে। তাইসিরুল

অচিরেই তোমার রাব্ব তোমাকে এরূপ দান করবেন যাতে তুমি সন্তুষ্ট হবে। মুজিবুর রহমান

৫. আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে অনুগ্রহ দান করবেন, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।(১)

(১) অর্থাৎ আপনার পালনকর্তা আপনাকে এত প্রাচুর্য দেবেন যে, আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। এতে কি দিবেন, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, প্রত্যেক কাম্যবস্তুই প্রচুর পরিমাণে দেবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাম্যবস্তুসমূহের মধ্যে ছিল ইসলামের ও কুরআনের উন্নতি, সারা বিশ্বে হিদায়াতের প্রসার, শত্রুর বিরুদ্ধে তার বিজয়লাভ, শত্রুদেশে ইসলামের কালেমা সমুন্নত করা ইত্যাদি। আর তার মৃত্যুর পর হাশরের ময়দানে ও জান্নাতেও তাকে আল্লাহ তা'আলা অনেক অনুগ্রহ দান করবেন। [বাদা’ইউত তাফসীর]

হাদীসে আছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পরবর্তীতে যে সমস্ত জনপদ বিজিত হবে তা একটি একটি করে পেশ করা হচ্ছিল। এতে তিনি খুশী হলেন, তখন আল্লাহ্ তা'আলা “অচিরেই আপনার রব আপনাকে এমন দান করবেন যে আপনি সস্তুষ্ট হয়ে যাবেন” এ আয়াত নাযিল করলেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাকে জান্নাতে হাজার প্রাসাদের মালিক বানালেন। প্রতিটি প্রাসাদে থাকবে প্রাসাদ উপযোগী খাদেম ও ছোট ছোট বাচ্চারা। [মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫২৬]

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। অচিরেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে (এমন কিছু) দান করবেন, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হবে। [1]

[1] এর দ্বারা দুনিয়ার বিজয় এবং আখেরাতে সওয়াব বোঝানো হয়েছে। এতে ঐ সুপারিশ করার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত যা নবী (সাঃ) নিজের গোনাহগার উম্মতের জন্য আল্লাহর নিকট লাভ করবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৩:৬ اَلَمۡ یَجِدۡکَ یَتِیۡمًا فَاٰوٰی ۪﴿۶﴾

তিনি কি তোমাকে ইয়াতীম অবস্থায় পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। আল-বায়ান

তিনি কি তোমাকে ইয়াতীম অবস্থায় পান নাই? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন। তাইসিরুল

তিনি কি তোমাকে পিতৃহীন অবস্থায় পাননি, অতঃপর তোমাকে আশ্রয় দান করেননি? মুজিবুর রহমান

৬. তিনি কি আপনাকে ইয়াতীম অবস্থায় পান নি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন(১);

(১) এখানে আল্লাহ্ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি কিছু নেয়ামতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করেন। প্রথম নেয়ামত হচ্ছে, আমি আপনাকে পিতৃহীন পেয়েছি। আপনার জন্মের পূর্বেই পিতা ইন্তেকাল করেছিল এবং ছোট থাকতেই মা মারা যায়। অতঃপর আমি আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি। অর্থাৎ প্রথমে পিতামহ আবদুল মুত্তালিব, পরবর্তীতে পিতৃব্য আবু তালেব যত্নসহকারে আপনাকে লালন-পালন করতেন। [সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। তিনি কি তোমাকে পিতৃহীন অবস্থায় পাননি, অতঃপর তোমাকে আশ্রয় দান করলেন? [1]

[1] অর্থাৎ, পিতার স্নেহ-সাহায্য থেকে তুমি বঞ্চিত ছিলে। আমিই তোমার সহায়ক হলাম।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৩:৭ وَ وَجَدَکَ ضَآلًّا فَہَدٰی ۪﴿۷﴾

আর তিনি তোমাকে পেয়েছেন পথ না জানা অবস্থায়। অতঃপর তিনি পথনির্দেশ দিয়েছেন। আল-বায়ান

তিনি তোমাকে পেয়েছিলেন পথের দিশা-হীন, অতঃপর দেখালেন সঠিক পথ। তাইসিরুল

তিনি তোমাকে পেলেন পথ সম্পর্কে অনবহিত, অতঃপর তিনি পথের নির্দেশ দিলেন। মুজিবুর রহমান

৭. আর তিনি আপনাকে পেলেন পথ সম্পর্কে অনবহিত, অতঃপর তিনি পথের নির্দেশ দিলেন।(১)

(১) দ্বিতীয় নি'আমত হচ্ছে, আপনাকে ضال পেয়েছি। এ শব্দটির অর্থ পথভ্রষ্টও হয় এবং অনভিজ্ঞ, অনবহিত বা গাফেলও হয়। এখানে দ্বিতীয় অর্থই উদ্দেশ্য। নবুওয়ত লাভের পূর্বে তিনি আল্লাহর বিধি-বিধান সম্পর্কে, ঈমান সম্পর্কে অনবহিত ছিলেন। অতঃপর নবুওয়তের পদ দান করে তাকে পথনির্দেশ দেয়া হয়, যা তিনি জানতেন না তা জানানো হয়; সর্বোত্তম আমলের তৌফিক দেওয়া হয়। [কুরতুবী, মুয়াস্‌সার]

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। তিনি তোমাকে পেলেন পথহারা অবস্থায়, অতঃপর তিনি পথের নির্দেশ দিলেন। [1]

[1] অর্থাৎ, তুমি দ্বীন, শরীয়ত ও ঈমান সম্বন্ধে অজ্ঞাত ছিলে। আমি তোমাকে পথ দেখালাম, নবুঅত দিলাম এবং তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করলাম। ইতিপূর্বে তুমি হিদায়াতের জন্য পেরেশান ছিলে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৩:৮ وَ وَجَدَکَ عَآئِلًا فَاَغۡنٰی ؕ﴿۸﴾

তিনি তোমাকে পেয়েছেন নিঃস্ব। অতঃপর তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। আল-বায়ান

তিনি তোমাকে পেলেন নিঃস্ব, অতঃপর করলেন অভাবমুক্ত। তাইসিরুল

তিনি তোমাকে পেলেন নিঃস্ব অবস্থায়, অতঃপর অভাবমুক্ত করলেন। মুজিবুর রহমান

৮. আর তিনি আপনাকে পেলেন নিঃস্ব অবস্থায়, অতঃপর অভাবমুক্ত করলেন(১),

(১) তৃতীয় নেয়ামত হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে নিঃস্ব ও রিক্তহস্ত পেয়েছেন; অতঃপর আপনাকে অভাবমুক্ত করেছেন এবং ধৈর্যশীল ও সন্তুষ্ট করেছেন। এখানে أَغْنَىٰ বলতে দুটি অর্থ হতে পারে। এক অর্থ, তিনি আপনাকে ধনশালী করেছেন। অপর অর্থ, তিনি আপনাকে তাঁর নেয়ামতে সন্তুষ্ট করেছেন। [দেখুন: ইবন কাসীর, মুয়াস্‌সার]

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। তিনি তোমাকে পেলেন নিঃস্ব অবস্থায়, অতঃপর অভাবমুক্ত করলেন।[1]

[1] ‘অভাবমুক্ত করলেন’ অর্থাৎ, তিনি ছাড়া অন্যান্য থেকে তোমাকে অমুখাপেক্ষী করলেন। সুতরাং তুমি অভাবী অবস্থায় ধৈর্যশীল এবং অভাবমুক্ত অবস্থায় কৃতজ্ঞ হলে। যেমন খোদ নবী (সাঃ)ও বলেছেন যে, মাল ও আসবাবপত্রের আধিক্যই ধনবত্তা নয়; বরং আসল ধনবত্তা হল অন্তরের ধনবত্তা। (সহীহ মুসলিম যাকাত অধ্যায়, অধিকাধিক মালের মালিক ধনী নয় পরিচ্ছেদ।)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৩:৯ فَاَمَّا الۡیَتِیۡمَ فَلَا تَقۡہَرۡ ؕ﴿۹﴾

সুতরাং তুমি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হয়ো না। আল-বায়ান

কাজেই তুমি ইয়াতীমের প্রতি কঠোরতা করবে না। তাইসিরুল

অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়োনা, মুজিবুর রহমান

৯. কাজেই আপনি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হবেন না।(১)

(১) এ নি'আমতগুলো উল্লেখ করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ কয়েকটি বিষয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রথম নির্দেশ হচ্ছে, ইয়াতিমের সাথে কঠোর ব্যবহার করবেন না। অর্থাৎ আপনি কোন পিতৃহীনকে অসহায় ও বেওয়ারিশ মনে করে তার ধন-সম্পদ জবরদস্তিমূলকভাবে নিজ অধিকারভুক্ত করে নেবেন না। এর মাধ্যমে সকল উম্মতকেই ইয়াতীমের সাথে সহৃদয় ব্যবহার করার জোর আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং বেদনাদায়ক ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছেন। [বাদা’ই’উত তাফসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৯। অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়ো না। [1]

[1] বরং ব্যবহারে তার সাথে নম্রতা ও অনুগ্রহ প্রদর্শন কর।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৩:১০ وَ اَمَّا السَّآئِلَ فَلَا تَنۡہَرۡ ﴿ؕ۱۰﴾

আর ভিক্ষুককে তুমি ধমক দিওনা। আল-বায়ান

এবং ভিক্ষুককে ধমক দিবে না। তাইসিরুল

আর সওয়ালকারীকে ভৎর্সনা করনা। মুজিবুর রহমান

১০. আর প্রার্থীকে ভর্ৎসনা করবেন না।(১)

(১) দ্বিতীয় নির্দেশ হচ্ছে, অর্থগত ও জ্ঞানগত প্রার্থীকে ধমক বা ভর্ৎসনা করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে নিষেধ করা হয়েছে। যদি ‘প্রার্থী’ বলে এখানে সাহায্য প্রার্থনাকারী অভাবী ধরা হয় তাহলে এর অর্থ হয়, তাকে সাহায্য করতে পারলে করুক আর না করতে পারলে কোমল স্বরে তাকে নিজের অক্ষমতা বুঝিয়ে দিন। কিন্তু কোনক্রমে তার সাথে রূঢ় ব্যবহার করবেন না। এই অর্থের দিক দিয়ে এই নির্দেশটিকে আল্লাহর সেই অনুগ্রহের জবাবে দেয়া হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে “আপনি অভাবী ছিলেন তারপর আল্লাহ আপনাকে ধনী করে দিয়েছেন।” আর যদি ‘প্রার্থীকে’ জিজ্ঞেসকারী অর্থাৎ দ্বীনের কোন বিষয় বা বিধান জিজ্ঞেসকারী অর্থে ধরা হয় তাহলে এর অর্থ হয়, এই ধরনের লোক যতই মূর্খ ও অজ্ঞ হোক না কেন এবং যতই অযৌক্তিক পদ্ধতিতে সে প্রশ্ন করুক বা নিজের মানসিক সংকট উপস্থাপন করুক না কেন, সকল অবস্থায়ই স্নেহশীলতা ও কোমলতা সহকারে তাকে জবাব দিন এবং ধমক দিয়ে বা কড়া কথা বলে তাদেরকে তাড়িয়ে দিবেন না। এই অর্থের দিক দিয়ে এই বাণীটিকে আল্লাহর সেই অনুগ্রহের জবাবে দেয়া হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে “আপনি পথের খোঁজ জানতেন না তারপর তিনিই আপনাকে পথনির্দেশনা দিয়েছেন।” আয়াত থেকে বোঝা গেল যে, সাহায্য প্রার্থীকে কিছু দিয়ে বিদায় করা এবং দিতে না পারলে নরম ভাষায় অক্ষমতা প্রকাশ করা উচিত। এমনিভাবে যে ব্যক্তি কোন শিক্ষণীয় বিষয় জানতে চায় তার জওয়াবেও কঠোরতা ও দুর্ব্যবহার করা নিষেধ। [দেখুন: সা’দী; আদওয়াউল বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

১০। এবং ভিক্ষুককে ধমক দিও না। [1]

[1] তার প্রতি কোন প্রকার কঠোরতা প্রদর্শন করো না এবং অহংকারও নয়। কর্কশ ও কড়া ভাষা ব্যবহার করো না। বরং (ভিক্ষা না দিয়ে) জওয়াব দিলেও স্নেহ ও মহব্বতের সাথে (মিষ্টি কথায়) জওয়াব দাও।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১০ পর্যন্ত, সর্বমোট ১১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ 1 2 পরের পাতা »