হুর বিষয়ক আয়াতসমূহ ৬ টি
৪৪ আদ-দুখান
৪৪:৫৪ کَذٰلِکَ ۟ وَ زَوَّجۡنٰہُمۡ بِحُوۡرٍ عِیۡنٍ ﴿ؕ۵۴﴾

এরূপই ঘটবে, আর আমি তাদেরকে বিয়ে দেব ডাগর নয়না হূরদের সাথে। আল-বায়ান

এ রকমই হবে, আর তাদের বিয়ে দিয়ে দেব ডাগর ডাগর সুন্দর উজ্জ্বল চোখওয়ালা কুমারীদের (হুরদের) সাথে। তাইসিরুল

এরূপই ঘটবে; তাদেরকে সঙ্গিনী দিব আয়তলোচনা হুর। মুজিবুর রহমান

৫৪. এরূপই ঘটবে; আর আমরা তাদেরকে বিয়ে দিয়ে দেব ডাগর নয়না হূরদের সাথে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫৪) এরূপই ঘটবে ওদের;[1] আর আয়তলোচনা হুরদের সাথে তাদের বিবাহ দেব। [2]

[1] অর্থাৎ, আল্লাহভীরুদের সাথে অবশ্যই এই ধরনের আচরণ করা হবে।

[2] حُوْرٌ হল حَوْرَآءُ এর বহুবচন। এর উৎপত্তি حَوَرٌ থেকে। যার অর্থ, চোখের সাদা অংশের অত্যধিক সাদা এবং কালো অংশের অত্যধিক কালো হওয়া। حَوْرَآءُ (হুর) এই জন্য বলা হয় যে, দৃষ্টি তাদের রূপ ও সৌন্দর্যকে দেখে হয়রান (মুগ্ধ) হয়ে যাবে। عَيْنٌ হল, عَيْنَآءُ এর বহুবচন। আয়তলোচনঃ প্রশস্ত বা ডাগর চোখ; যেমন হয় হরিণের চোখ। পূর্বেই আলোচনা হয়েছে যে, প্রত্যেক জান্নাতী কমসে কম দু’টি হুর অবশ্যই পাবে। যারা রূপ ও সৌন্দর্যের দিক দিয়ে যেন চাঁদ ও সূর্যের মত উজ্জ্বল হবে। অবশ্য তিরমিযীর একটি সহীহ বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রত্যেক শহীদ বিশেষ করে ৭২টি করে হুর পাবেন। (জিহাদের ফযীলতের পরিচ্ছেদসমূহ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ আত-তূর
৫২:২০ مُتَّکِئِیۡنَ عَلٰی سُرُرٍ مَّصۡفُوۡفَۃٍ ۚ وَ زَوَّجۡنٰہُمۡ بِحُوۡرٍ عِیۡنٍ ﴿۲۰﴾

সারিবদ্ধ পালঙ্কে তারা হেলান দিয়ে বসবে; আর আমি তাদেরকে মিলায়ে দেব ডাগরচোখা হূর-এর সাথে। আল-বায়ান

তারা সারিবদ্ধভাবে সাজানো আসনে হেলান দিয়ে বসবে, আর আমি তাদের বিয়ে দিয়ে দেব সুন্দর বড় বড় উজ্জ্বল চক্ষু বিশিষ্টা কুমারীদের সঙ্গে। তাইসিরুল

তারা বসবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে; আমি তাদের মিলন ঘটাব আয়তলোচনা হুরের সঙ্গে। মুজিবুর রহমান

২০. তারা বসবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে; আর আমরা তাদের মিলন ঘটাব ডাগর চোখবিশিষ্টা হূরের সঙ্গে;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) তারা বসবে সারিবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে;[1] আমি তাদের বিবাহ দেব আয়তলোচনা হুরদের সঙ্গে।

[1] مَصْفُوْفَةٍ একে অপরের সাথে মিলিত; যেন তা একটিই সারি। আবার কেউ কেউ এর অর্থ এই বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মুখমন্ডল একে অপরের সম্মুখে হবে। যেমন, যুদ্ধের ময়দানে সৈন্যদল পরস্পরের মুখোমুখি হয়। এই অর্থকেই কুরআনের অন্যত্র এই ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। (عَلَى سُرُرٍ مُّتَقَابِلِين) অর্থাৎ, মুখোমুখি হয়ে তারা আসনে আসীন থাকবে। (সূরা সা-ফফাত ৪৪ আয়াত)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫৫ আর-রাহমান
৫৫:৭০ فِیۡہِنَّ خَیۡرٰتٌ حِسَانٌ ﴿ۚ۷۰﴾

সেই জান্নাতসমূহে থাকবে উত্তম চরিত্রবতী অনিন্দ্য সুন্দরীগণ। আল-বায়ান

তাতে আছে উত্তম স্বভাব চরিত্রের সুন্দরী (কুমারী)রা। তাইসিরুল

সেই সকলের মাঝে রয়েছে সুশীলা, সুন্দরীগণ। মুজিবুর রহমান

৭০. সে উদ্যানসমূহের মাঝে রয়েছে চরিত্রবর্তী, অনিন্দ্য সুন্দরীগণ।(১)

(১) خَيْرَاتٌ এর অর্থ চারিত্রিক দিক দিয়ে সুশীলা এবং حِسَانٌ এর অর্থ দেহাবয়বের দিক দিয়ে সুন্দরী। উভয় উদ্যানের নারীগণ সমভাবে এই বিশেষণে বিশেষিত হবে। [ইবন কাসীর; কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭০) সে সকলের মাঝে রয়েছে উত্তম চরিত্রের সুন্দরীগণ। [1]

[1] خَيْرَاتٌ থেকে উদ্দিষ্ট, চারিত্রিক ও আচার-আচরণের উৎকৃষ্টতা। আর حِسَانٌ এর অর্থ, রূপ-লাবণ্যের অপূর্বতা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫৫ আর-রাহমান
৫৫:৭২ حُوۡرٌ مَّقۡصُوۡرٰتٌ فِی الۡخِیَامِ ﴿ۚ۷۲﴾

তারা হূর, তাঁবুতে থাকবে সুরক্ষিতা। আল-বায়ান

(সুসজ্জিত) প্যাভিলিয়নে সুরক্ষিত থাকবে সুলোচনা সুন্দরীরা। তাইসিরুল

তারা তাবুতে সুরক্ষিত হুর। মুজিবুর রহমান

৭২. তারা হূর, তাঁবুতে সুরক্ষিতা।(১)

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “জন্নাতে এমন একটি মুক্তার খীমা থাকবে যার অভ্যন্তরভাগ ফাঁকা থাকবে। যার আয়তন হবে ষাট মাইল। তার প্রতিটি কোণে মু'মিনের যে পরিবার থাকবে অন্য কোণের লোকজন তাদের দেখতে পাবে না। মুমিনরা সেগুলোয় ঘুরাপিরা করবে। [বুখারী: ৪৮৭৯, মুসলিম: ২৮৩৮]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭২) তারা তাঁবুতে সুরক্ষিত হুর।[1]

[1] হাদীসে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, ‘‘জান্নাতে মোতির তাঁবু হবে। তার প্রস্থ হবে ৬০ মাইল। তার প্রতি কোণে থাকবে জান্নাতীর (সুন্দরী) স্ত্রী। যাকে অপর কোণের লোকেরা দেখতে পাবে না। মু’মিন তাতে বিচরণ করবে।’’ (বুখারীঃ সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়, মুসলিমঃ জান্নাত অধ্যায়)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫৬ আল-ওয়াকিয়া
৫৬:২২ وَ حُوۡرٌ عِیۡنٌ ﴿ۙ۲۲﴾

আর থাকবে ডাগরচোখা হূর, আল-বায়ান

আর (সেখানে থাকবে) ডাগর ডাগর উজ্জ্বল সুন্দর চোখওয়ালা সুন্দরীরা, তাইসিরুল

আর তাদের জন্য থাকবে আয়তলোচনা হুর – মুজিবুর রহমান

২২. আর তাদের জন্য থাকবে ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হূর,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২২) আর (তাদের জন্য থাকবে) আয়তলোচনা হুর;

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫৬ আল-ওয়াকিয়া
৫৬:২৩ کَاَمۡثَالِ اللُّؤۡلُوَٴ الۡمَکۡنُوۡنِ ﴿ۚ۲۳﴾

যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা, আল-বায়ান

সযত্নে লুকিয়ে রাখা মুক্তোর মত, তাইসিরুল

সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ – মুজিবুর রহমান

২৩. যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা(১),

(১) আলোচ্য আয়াতে জান্নাতের নারীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। জান্নাতে দু ধরনের নারী থাকবে।

এক. সে সমস্ত নারী যারা দুনিয়াতে ছিল। তারা সেখানে স্ত্রী হিসেবে থাকবে। এ সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো:

* দুনিয়াতে যারা যাদের স্ত্রী ছিল তারা আখেরাতে তাদের স্বামীরা যদি জান্নাতে যায় তখন তারাও তাদের স্ত্রী হিসেবে থাকবে। এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী, “স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তানসন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তারাও, এবং ফিরিশতাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে,” [সূরা আর-রাদ: ২৩] সুতরাং তারা জান্নাতে পরস্পর আনন্দে বসবাস করবে। মহান আল্লাহ বলেন, “তারা এবং তাদের স্ত্রীগণ বলেন, “তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণগণ সানন্দে জান্নাতে প্ৰবেশ কর।” [সূরা আয-যুখরুফ: ৭০]

* দুনিয়াতে যদি কোন মহিলা পরপর কয়েকজনের স্ত্রী ছিল, তারপর যদি সে সমস্ত পুরুষেরা সবাই জান্নাতে যায় এবং সবাই মহিলার জন্য সমপর্যায়ের হয়, তবে সে মহিলা তাদের মধ্যকার সর্বশেষ ব্যক্তিটির স্ত্রী হবে। কারণ মৃত্যুর কারণে তাদের পূর্বের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। স্বামীর জান্নাতে যাওয়ার কারণে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হবে যে, সে তার স্ত্রীর সাথে ভাল ব্যবহার করেছে। সুতরাং মহিলা তার সর্বশেষ যে স্বামীর সাথে ঘর করা অবস্থায় মারা গেছে তার সাথে সে জান্নাতে থাকবে। এর প্রমাণ রাসূল এর বাণী; তিনি বলেন, যে মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পরে অন্য স্বামী গ্ৰহণ করেছে সে তার সর্বশেষ স্বামীর সাথে জান্নাতে থাকবে। [ত্বাবরানী: আল-আওসাত: ৩/২৭৫, নং ৩১৩০, মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৪/২৭০]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, আসমা বিনতে আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে কঠোর ব্যবহার করতেন। আসমা তার পিতা আবু বকরের কাছে অভিযোগ করলে তিনি বললেন, বেটি! সবর করো, কোন মহিলা যদি তার স্বামীর সাথে থাকা অবস্থায় মারা যায় তারপর দু’জনই জান্নাতে যায় তবে আল্লাহ তাদের দু’জনকে জান্নাতেও এক সাথে রাখবেন। (বিশেষ করে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মানুষ) [তারিখে ইবনে আসাকির ১৯/১৯৩]

অনুরূপ অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার স্ত্রীকে মৃত্যুর সময় বলেন যে, তুমি যদি আখেরাতে আমার স্ত্রী হতে চাও তবে আমার পরে আর কারো সাথে বিয়ে করবেনা। কারণ; একজন মহিলা তার সর্বশেষ স্বামীর সাথেই জান্নাতে থাকবে। আর এজন্যই আল্লাহ তাঁর নবীর স্ত্রীদেরকে নবীর পরে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। [বাইহাকী: আস-সুনানুল কুবরা: ৭/৬৯–৭০, খতিব বাগদাদী: তারিখে বাগদাদ: ৯/৩২৮]

অনুরূপভাবে অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর পরে মু'আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি এই বলে ফেরত দিলেন যে, আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাকে বলেছেন যে, একজন মহিলা তার সর্বশেষ স্বামীর সাথেই জান্নাতে থাকবে। আমি আবুদ্দারদার পরিবর্তে কাউকে চাই না। [বুসীরী: ইতহাফুল খিয়ারাতুল মাহারাহ: ৪/৩৭ নং ৩২৬৪, ইবনে হাজার: আলমাতালিবুল আলিয়া: ২/১১০]

* আর যদি মহিলা কারও স্ত্রী হিসেবে সর্বশেষে ছিল না (যেমন তালাকপ্রাপ্ত ছিল), তখন সে তাদের মধ্যে যারা তার সাথে দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশী সুন্দর ব্যবহার করেছে তার সাথে থাকবে। অথবা তাকে যে কাউকে গ্ৰহণ করার এখতিয়ার দেয়া হবে। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে এ ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা পাওয়া যায় (যদিও বর্ণনাগুলো দূর্বল)। এক বর্ণনায় এসেছে, উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মহিলাদের কেউ কেউ দুটি বা তিনটি স্বামীর ঘর করেছে সে  জন্নাতে কার থাকবে? তিনি উত্তরে বললেন, যার ব্যবহার-চরিত্র সবচেয়ে ভাল। [তাবরানী: মুজামুল কাবীর: ২৩/২২২]

কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, এ প্রশ্নটি উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা করেছিলেন, জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তাকে এখতিয়ার দেয়া হবে যে, যাকে ইচ্ছে বাছাই করে নাও। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে উম্মে সালামাহ! উত্তম ব্যবহার- চরিত্র দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ নিয়ে গেল। [তাবরানী: মুজামুল কাবীর ২৩/৩৬৭, হাইসামী: মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/১১৯]

* জন্নাতে কোন কুমার থাকবে না। প্রত্যেক মুমিনের দু'জন স্ত্রী থাকবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রথম যে দলটি জান্নাতে যাবে তাদের চেহারার লাবন্য হবে পূর্নিমার রাত্রির চাঁদের চেয়েও বেশী। তারা থুথু নিক্ষেপকারী হবে না, শর্দি-কাশি সম্পন্ন হবে না, পায়খানা-পেশাব করবেনা, তাদের পেয়ালা হবে স্বর্ণের, চিরুনি হবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের, তাদের আগরকাঠ হবে উন্নতমানের উদকাঠ, ঘাম হবে মিসক, তাদের প্রত্যেকের থাকবে দু’জন করে স্ত্রী, যাদের সৌন্দর্যের প্রমাণ এত স্পষ্ট যে, তাদের হাড়ের ভিতরের মজ্জা গোস্ত ভেদ করে দেখা যাবে। [বুখারী: ৩০০৬, মুসলিম: ২৮৩৪]

* তবে দুনিয়াতে যদি কারও একাধিক স্ত্রী থাকে। তারপর তারা সবাই জান্নাতে যায় তবে তারা সবাই সে লোকের স্ত্রী হিসেবে থাকবে। এর প্রমাণ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।

* আর যদি কারও স্বামী জান্নাতী না হয় তখন তাকে আল্লাহ যার সাথে পছন্দ করেন তার সাথে জান্নাতে থাকতে দিবেন।

* জান্নাতী এ সমস্ত নারীরা তাদের দুনিয়ার অবস্থা থেকে সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন হবে। তারা হবে সবদিক থেকে পবিত্ৰা। তারা হায়েয, নিফাস, থুথু, কাশি, পেশাব, পায়খানা এসব থেকে মুক্ত থাকবে। মহান আল্লাহ বলেন, “আর তাদের জন্য সেখানে থাকবে পবিত্ৰা স্ত্রীগণ, এবং তারা সেখানে স্থায়ী হবে।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫] তাছাড়া তাদের সৌন্দর্যও হবে চিত্তাকর্ষক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি জান্নাতী কোন মহিলা যমীনের অধিবাসীদের দিকে তাকাতো তবে আসমান ও যমীনের মাঝের অংশ আলোতে ভরপুর হয়ে যেত, সুগন্ধিতে ভরে দিত। এমনকি তার মাথাস্থিত। উড়না দুনিয়া ও তার মধ্যে যা আছে তা থেকে উত্তম।” [বুখারী: ২৬৪৩, ২৭৯৬]

দুই. সে সমস্ত নারী যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাতে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে বলা হয় হূর। মহান আল্লাহ বলেন, “আর আমরা তাদেরকে বড় চোখবিশিষ্ট হূরদের সাথে বিয়ে দেব”। [সূরা আদ-দোখান: ৫৪] কুরআন ও হাদীসে তাদের কিছু গুণাগুণ বৰ্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে:

* তারা হবে অত্যন্ত শুভ্ৰ। আর এজন্যই তাদের নাম হয়েছে, হুর। কেননা, হূর শব্দ দ্বারা ঐ সমস্ত নারীদেরকে বোঝায় যাদের চোখের সাদা অংশ অত্যন্ত ফর্সা, কোন প্রকার খাদ নেই। আর যাদের চোখের কালো অংশ একেবারে কালো।

* তারা হবে প্রশস্ত চোখ বিশিষ্টা। তাদের এ দুটি গুণ আলোচ্য আয়াতেই বর্ণিত হয়েছে। [সূরা আল-ওয়াকি'আহ: ২২]

* তারা হবে সমবয়স্কা উদভিন্ন যৌবনা ও সুভাষিনী। আল্লাহ বলেন, “মুক্তাকীদের জন্য তো আছে সাফল্য, উদ্যান, আঙ্গুর, সমবয়স্কা উদভিন্ন যৌবনা তরুণী” [সূরা আন-নাবা: ৩১–৩৩]

* তারা হবে কুমারী আর তারা হবে স্বামী সোহাগিনী, মহান আল্লাহ্‌ বলেন, “ওদেরকে আমরা সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে–ওদেরকে করেছি কুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়স্কা,”। [সূরা আল-ওয়াকি'আহঃ ৩৫–৩৭]

* তাদের দেখতে মনে হবে যেন মনি মুক্তা; আল্লাহ্‌ বলেন, “সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ” [সূরা আল-ওয়াকি আহঃ ২৩]

* তাদের দেখতে মনে হবে যেন, পরিষ্কার ডিম। আল্লাহ্‌ বলেন, “মনে হয় যেন তারা সুরক্ষিত ডিম্ব।” [সূরা আস-সাফফাত: ৪৯]

* তাদেরকে এর আগে কেউ স্পর্শ করেনি। আর তারাও আপনি স্বামী ছাড়া অন্য কারো দিকে তাকায় না। মহান আল্লাহ বলেন, “সেসবের মাঝে রয়েছে বহু আনত নয়না, যাদেরকে আগে কোন মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি।” [সূরা আর-রাহমান: ৫৬] অন্যত্র বলা হয়েছে, “তাদের সংগে থাকবে আয়তনয়না, আয়তলোচনা হুরীগণ।” [সূরা আস-সাফফাত: ৪৮] আরও বলা হয়েছে, “তারা হূর, তাঁবুতে সুরক্ষিতা।” [সূরা আর রাহমান: ৭১]

* তারা দেখতে মূল্যবান পাথরের মত সুন্দর ও মসৃন হবে। আল্লাহ বলেন, “তারা যেন পদ্মরাগ ও প্রবাল।” [সূরা আর-রাহমান: ৫৭]

* তাদের সৌন্দর্য এমন যে, তা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন সার্বিকভাবে ফুটে উঠবে। আল্লাহ বলেন, “সে উদ্যানসমূহের মাঝে রয়েছে সুশীলা, সুন্দরীগণ।” [সূরা আর-রাহমান: ৭০]

* জান্নাতে তারা গানও গাইবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “জান্নাতীদের স্ত্রীগণ (হুরগণও এতে শামিল) তারা এমন সুন্দর স্বরে গান ধরবে যা কোনদিন কেউ শুনেনি। তারা যা বলবে, “আমরা অনিন্দ সুন্দরী, সুশীলা, সন্মানিত লোকের স্ত্রী, যারা আমাদের দিকে চক্ষু শীতল করার জন্য তাকায়” তারা আরও বলবে, “আমরা চিরস্থায়ী সুতরাং আমরা কখনো মরবনা, আমরা নিরাপদ সুতরাং আমাদের ভয় নেই, আমরা স্থায়ী অধিবাসী সুতরাং আমরা চলে যাব না” [তাবরানী: মুজামুস সাগীর: ২/৩৫, নং: ৭৩৪, আল আওসাত: ৫/১৪৯, নং ৪৯১৭, মাজমাউয যাওয়ায়িদ; ১০/৪১৯]

* দুনিয়াতে কোন জান্নাতী পুরুষকে কোন নারী কষ্ট দিলে জান্নাতের হুরীরা সে জন্য কষ্টঅনুভব করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন মহিলা যখনই কোন জান্নাতী পুরুষকে দুনিয়াতে কষ্ট দেয় তখনি তার জান্নাতী হুর স্ত্রী বলতে থাকে, “তোমার ধ্বংস হোক, তুমি তাকে কষ্ট দিও না, সে তো তোমার কাছে সাময়িক অবস্থান করছে, অচিরেই সে তোমাকে ছেড়ে আমাদের নিকট চলে আসবে”। [তিরমিযী: ১১৭৪, ইবনে মাজাহ: ২০১৪]

* সহীহ হাদীসের কোথাও একজন মুমিনের জন্য কতজন হূর থাকবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। এটা আল্লাহর রহমত ও বান্দার আমলের উপর নির্ভরশীল। তবে শহীদের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের জন্য নিজেদের স্ত্রী ছাড়াও সত্তরোর্ধ হূর থাকবে। [দেখুন, তিরমিযী: ১৬৬৩, মুসনাদে আহমাদ: ৪/১৩১]

তাফসীরে জাকারিয়া

(২৩) সুরক্ষিত মুক্তা সদৃশ-[1]

[1] مَكْنُوْنٌ (সুরক্ষিত) যাকে গুপ্ত রাখা হয়েছে। তাতে না কারো হাতের স্পর্শ লাগে, আর না ধূলাবালি লাগে। এ ধরনের জিনিস একেবারে পরিষ্কার-পরিছন্ন এবং তার আসল অবস্থায় থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৬ পর্যন্ত, সর্বমোট ৬ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে