পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মাগরিব ও ফজরের সালাতের পর সাত বার আশ্রয় চাইবে, মহান আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন (আমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই!)
২০১৯. হারিস বিন মুসলিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠান, অতঃপর যখন আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছলাম, তখন আমি আমার ঘোড়াকে উত্তেজিত করি এবং আমি আমার সঙ্গীদের উপর অগ্রগামী হই, অতঃপর সেই মহল্লার লোকদের সাথে আমার রনীন নামক জায়গায় সাক্ষাত হয়, তখন আমি বলি, “তোমরা বলো, لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই), তাহলে তোমরা বাঁচতে পারবে।” অতঃপর তারা কালেমা পাঠ করেন। তখন আমার সঙ্গীরা আমাকে তিরস্কার করেন এবং বলেন, “গনীমত আমাদের হস্তগত হওয়ার পর আমরা তা থেকে বঞ্ছিত হয়ে গেলাম।” অতঃপর যখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলাম, তখন তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ব্যাপারটি বর্ণনা করেন। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ডাকেন এবং আমি যা করেছি সেটাকে উত্তম কাজ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের প্রত্যেক ব্যক্তির বদৌলতে এতো এতো সাওয়াব লিখে দিয়েছেন।”
রাবী আব্দুর রহমান বলেন, “আমি সাওয়াবের বিষয়টি ভুলে যাই।” রাবী বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেন, “অচিরেই আমি তোমার জন্য একটি চিঠি লিখবো এবং তোমার মাধ্যমে আমার পরে আগত মুসলিম নেতাদের প্রতি অসিয়ত করবো।” রাবী বলেন, “অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার জন্য একটি চিঠি লিখেন অতঃপর তা সীল মোহর করে আমাকে প্রদান করেন এবং বলেন, “যখন তুমি মাগরিবের সালাত আদায় করবে, তখন কারো সাথে কথা বলার আগে সাত বার বলবে, اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ (হে আল্লাহ, আপনি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন), তবে যদি সেই রাতে মারা যাও, মহান আল্লাহ তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি লিখে দিবেন। আর যখন তুমি ফজরের সালাত আদায় করবে, তখন কারো সাথে কথা বলার আগে সাত বার বলবে, اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ (হে আল্লাহ, আপনি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন), তবে যদি সেই দিন মারা যাও, মহান আল্লাহ তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি লিখে দিবেন। ”
রাবী বলেন, “অতঃপর যখন মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উঠিয়ে নেন, তখন আমি চিঠিটি নিয়ে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসি। অতঃপর তিনি চিঠিটি খুলে পড়েন, আমাকে উপঢৌকন দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তাতে সীল মোহর মেরে দেন। তারপর আমি চিঠিটি নিয়ে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসি। অতঃপর তিনি চিঠিটি পড়েন, আমাকে উপঢৌকন দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তাতে সীল মোহর মেরে দেন। তারপর আমি চিঠিটি নিয়ে উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসি। তিনিও অনুরুপ কাজ করেন।”
মুসলিম বিন হারিস বলেন, “হারিস বিন মুসলিম উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে চিঠিটি আমাদের কাছে রেখে মারা যান। তারপর চিঠিটি আমাদের কাছেই ছিল, অতঃপর উমার বিন আব্দুল আযীয রহিমাহুল্লাহ আমাদের দেশের গভর্নরকে লিখে নির্দেশ দেন আমি যেন চিঠিটিসহ তাঁর কাছে আসি। অতঃপর আমি তাঁর কাছে আসি, অতঃপর তিনি চিঠিটি খুলে পড়েন, আমাকে উপঢৌকন দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তাতে সীল মোহর মেরে দেন। অতঃপর তিনি বলেন, “জেনে রাখো, যদি আমি চাইতাম তবে তবে এই উপঢৌকন আপনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় পৌঁছে যেতো, কিন্তু আমি চেয়েছি যে, যাতে আপনি হাদীসটি আমার কাছে সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পারেন।” রাবী বলেন, “অতঃপর আমি তাঁর কাছে হাদীসটি বর্ণনা করি।”[1]
হাদীসটির ব্যাপারে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট কোন মন্তব্য করেননি। আল্লামা নাসির উদ্দিন আলবানী রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে য‘ঈফ বলেছেন। (আয য‘ঈফা: ১৬২৪)
ذِكْرُ كَتْبَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ جَوَازًا مِنَ النَّارِ لِمَنِ اسْتَجَارَ مِنْهَا فِي عَقِبِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ وَالْمَغْرِبِ سَبْعَ مَرَّاتٍ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْهَا
2019 - أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَسَّانَ الْكِنَانِيِّ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ مُسْلِمٍ التَّمِيمِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم في سرية فلما بلغنا الغار اسْتَحْثَثْتُ فَرَسِي فَسَبَقْتُ أَصْحَابِي فَتَلَقَّانِي الْحَيُّ بِالرَّنِينِ فَقُلْتُ: قُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ تَحَرَّزُوا فَقَالُوهَا فَلَامَنِي أَصْحَابِي وَقَالُوا: حُرِمْنا الْغَنِيمَةَ بَعْدَ أَنْ رُدَّتْ بِأَيْدِينَا فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرُوهُ بِمَا صَنَعْتُ فَدَعَانِي فحسِّن لِي مَا صَنَعْتُ وَقَالَ: (أَمَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ كَتَبَ لَكَ بِكُلِّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ كَذَا وَكَذَا) قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: فَأَنَا نَسِيتُ الثَّوَابَ قَالَ: ثُمَّ قَالَ لِي: (إِنِّي سَأَكْتُبُ لَكَ كِتَابًا وَأُوصِي بِكَ مَنْ يَكُونُ بَعْدِي مِنْ أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ) قَالَ: فَكَتَبَ لِي كِتَابًا وَخَتَمَ عَلَيْهِ وَدَفَعَهُ إِلَيَّ وَقَالَ: (إِذَا صَلَّيْتَ الْمَغْرِبَ فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تُكَلِّم أَحَدًا: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ فَإِنَّكَ إِنْ مُتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ تِلْكَ كَتَبَ اللَّهُ لَكَ جَوَازًا مِنَ النَّارِ وَإِذَا صَلَّيْتَ الصُّبْحَ فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تُكَلِّمَ أَحَدًا: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ فَإِنَّكَ إِنْ مُتَّ مِنْ يَوْمِكَ ذَلِكَ كَتَبَ اللَّهُ لَكَ جَوَازًا مِنَ النَّارِ) قَالَ: فَلَمَّا قَبَضَ اللَّهُ رَسُولَهُ أَتَيْتُ أَبَا بَكْرٍ بِالْكِتَابِ فَفَضَّهُ فَقَرَأَهُ وَأَمَرَ لِي بِعَطَاءٍ وَخَتَمَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَتَيْتُ بِهِ عُمَرَ فَقَرَأَهُ وَأَمَرَ لِي وَخَتَمَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَتَيْتُ بِهِ عُثْمَانَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ)
قَالَ مُسْلِمُ بْنُ الْحَارِثِ: تُوُفِّيَ الْحَارِثُ بْنُ مُسْلِمٍ فِي خِلَافَةِ عُثْمَانَ وَتَرَكَ الْكِتَابَ عِنْدَنَا فَلَمْ يَزَلْ عِنْدَنَا حَتَّى كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى الْوَالِي بِبَلَدِنَا يَأْمُرُهُ بِإِشْخَاصِي إِلَيْهِ وَالْكِتَابَ فَقَدِمْتُ عَلَيْهِ ففضَّه وَأَمَرَ لِي وَخَتَمَ عَلَيْهِ وَقَالَ: أَمَا إِنِّي لَوْ شِئْتُ أَنْ يَأْتِيَكَ ذَلِكَ وَأَنْتَ فِي مَنْزِلِكَ فَعَلْتُ وَلَكِنْ أَحْبَبْتُ أَنْ تُحَدِّثَنِي بِالْحَدِيثِ عَلَى وَجْهِهِ قال: فحدثته
الراوي : الْحَارِث بْن مُسْلِمٍ التَّمِيمِيّ | المحدث : العلامة ناصر الدين الألباني | المصدر : التعليقات الحسان على صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 2019 | خلاصة حكم المحدث: ضعيف ـ ((الضعيفة)) (1624)