আর-রাহীকুল মাখতূম গাযওয়ায়ে বদরে কুবরা- ইসলামের প্রথম ফায়সালাকারী যুদ্ধ (غَزْوَةُ بَدْرِ الْكُبْرٰى َاوَّلُ مَعْرِكَةٍ مِنْ مُعَارِكِ الْإِسْلَامِ الْفَاصِلَةِ) আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী (রহঃ)
ফেরেশতাদের অবতরণ (نُزُوْلُ الْمَلَائِكَةِ):

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে একটু তন্দ্রা আসলো। তারপর তিনি স্বীয় মস্তক মুবারক উঠিয়ে বললেন,

‏‏(‏أَبْشِرْ يَا أَبَا بَكْرٍ، هٰذَا جِبْرِيْلُ عَلٰى ثَنَايَاهُ النَّقْعُ‏)

‘আবূ বাকর (রাঃ) খুশী হও। ইনি জিবরাঈল, (আঃ) তার দেহ ধূলো বালিতে ভরপুর।’ ইবনু ইসহাক্বের বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,

‏‏(‏أَبْشِرْ يَا أَبَا بَكْرٍ، أَتَاكَ نَصْرُ اللهِ، هٰذَا جِبْرِيْلُ آخِذٌ بِعَنَانِ فَرْسِهِ يَقُوْدُهُ، وَعَلٰى ثَنَايَاهُ النَّقْعُ‏)

‘আবূ বাকর (রাঃ) আনন্দিত হও, তোমাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এসে গেছে। ইনি জিবরাঈল (আঃ), তিনি স্বীয় ঘোড়ার লাগাম ধরে ওর আগে আগে চলে আসছেন। তার দেহ ধূলোবালিতে পরিপূর্ণ রয়েছে।’

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাউনির দরজা হতে বাইরে বেরিয়ে আসলেন। তিনি লৌহ বর্ম পরিহিত ছিলেন। পূর্ণ উত্তেজনার সাথে তিনি সামনে অগ্রসর হচ্ছিলেন এবং মুখে উচ্চারণ করছিলেন,

‏(‏سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّوْنَ الدُّبُرَ‏)‏ ‏[‏القمر‏:‏45‏]

‘‘এ সংঘবদ্ধ দল শীঘ্রই পরাজিত হবে আর পিছন ফিরে পালাবে।’ (আল-ক্বামার ৫৪ : ৪৫)

তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মুষ্টি পাথুরে মাটি নিলেন এবং কুরাইশদের দিকে মুখ করে বললেন,‏‏(‏شَاهَتِ الْوُجُوْهُ‏)‏ ‘চেহারাগুলো বিকৃত হোক’’। আর একথা বলার সাথে সাথেই ঐ মাটি তাদের চেহারার দিকে নিক্ষেপ করলেন। তারপর মুশরিকদের মধ্যে এমন কেউই ছিল না যার চক্ষুদ্বয়ে, নাসারন্ধ্রে ও মুখে ঐ এক মুষ্টি মাটির কিছু না কিছু যায় নি। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

‏(‏وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلٰـكِنَّ اللهَ رَمَى‏)‏ ‏[‏الأنفال‏:‏17‏]‏‏.‏

‘‘তুমি যখন নিক্ষেপ করছিলে তা তো তুমি নিক্ষেপ করনি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন।’ (আল-আনফাল ৮ : ১৭)