নবীদের কাহিনী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) - মাদানী জীবন ডঃ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
আয়েশা (রাঃ)-এর ওমরাহ (عمرة عائشة رضـ)

মিনা থেকে ফিরে মুহাছ্ছাবে অবতরণের পর আয়েশা (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে বলেন, সবাই হজ্জ ও ওমরার নেকী নিয়ে ফিরবে, আর আমি কেবল হজ্জের নেকী নিয়ে ফিরব? তখন রাসূল (ছাঃ) আমাকে আমার ভাই আব্দুর রহমানের সাথে হারামের বাইরে তান‘ঈম পাঠিয়ে দিলেন। অতঃপর সেখান থেকে ওমরার ইহরাম বেঁধে এসে আমি ওমরাহ সম্পন্ন করি’। অতঃপর আমরা মুহাছ্ছাবে ফিরে আসি।[1] এসময় রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমরা কাজ শেষ করেছ? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি সবাইকে রওয়ানা হওয়ার নির্দেশ দেন এবং ফজরের ছালাতের আগেই সকলে কা‘বায় গিয়ে বিদায়ী ত্বাওয়াফ সম্পন্ন করেন। অতঃপর সকলে মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন’।[2] তবে উম্মে সালামাহ (রাঃ)-এর বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হারামে ফজরের ছালাত আদায় করেই তাঁরা বেরিয়ে যান’।[3] উল্লেখ্য যে, ঋতুবতী হওয়ার কারণে আয়েশা (রাঃ) ওমরাহ করতে পারেননি। পাক হওয়ার পর মদীনায় ফেরার প্রাক্কালে সেটি আদায় করেন’।[4]

এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মক্কাবাসীগণ হারাম এলাকার বাইরে যাবেন ও সেখান থেকে ওমরাহর ইহরাম বেঁধে আসবেন। এজন্য সবচেয়ে নিকটবর্তী হ’ল ৬ কি.মি. উত্তরে তান‘ঈম এলাকা। এটাই হ’ল জমহূর বিদ্বানগণের মত। মুহেববুদ্দীন ত্বাবারী বলেন, ওমরাহর জন্য মক্কাকে মীক্বাত গণ্য করেছেন, এমন কোন বিদ্বান সম্পর্কে আমি অবগত নই’।[5]

এভাবে হজ্জের সকল বিধি-বিধান পালন করার পর ১৪ই যিলহাজ্জ বুধবার হারামে ফজরের ছালাত আদায়ের পর রাসূল (ছাঃ) তাঁর ছাহাবীগণকে নিয়ে মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হয়ে যান (যাদুল মা‘আদ ২/২৭৫)

[1]. আহমাদ হা/২৬১৯৭, ১৪৯৮৫; বুখারী হা/৩১৯; মুসলিম হা/১২১১ (১১২); মিশকাত হা/২৫৫৬।

[2]. বুখারী হা/১৭৮৮; মুসলিম হা/১২১১ (১২৩); আবুদাঊদ হা/২০০৫; মিশকাত হা/২৬৬৭ হাদীছ ছহীহ।

[3]. বুখারী হা/১৬১৯; মুসলিম হা/১২৭৬; যাদুল মা‘আদ ২/২৭৫।

[4]. বুখারী হা/৩১৯; মুসলিম হা/১২১১; মিশকাত হা/২৫৫৬।

[5]. ফাৎহুল বারী হা/১৫২৪-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য; সুবুলুস সালাম হা/৬৭৫-এর ব্যাখ্যা, যা গ্রহণযোগ্য নয় (২/৩৮৪-৮৫); মাসিক আত-তাহরীক, রাজশাহী, ১৭/৮ সংখ্যা, মে’১৪ প্রশ্নোত্তর ১/২৪১ দ্রষ্টব্য।

বহিরাগত হাজীগণ যারা ওমরাহ করে মক্কায় অবস্থান করেন, তাদের মধ্যে বারবার মক্কার বাইরে গিয়ে তানঈম অর্থাৎ মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম বেঁধে এসে ভিন্ন ভিন্ন নামে বারবার ওমরাহ করা একটি বিদ‘আতী প্রথা মাত্র। আর এক সফরে একটির বেশী ওমরাহ করা যায় না। যেমন আব্দুর রহমান ওমরাহ করেননি (যাদুল মা‘আদ ২/৯০)। কেননা তিনি ওমরাহ করেছিলেন। কিন্তু আয়েশা ওমরাহ করেন। কেননা তিনি ইতিপূর্বে ওমরাহ করেননি।