দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম [যাকাত অধ্যায়] যাকাতুল ফিতর শরীফুল ইসলাম বিন যয়নুল আবেদীন
যাকাতুল ফিৎর ফরয হওয়ার জন্য নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া শর্ত কি?

যাকাতুল ফিৎর ফরয হওয়ার জন্য নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া শর্ত নয়। কেননা যাকাতুল ফিৎর ব্যক্তির উপর ফরয; মালের উপর ফরয নয়। মালের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। মালের কম-বেশীর কারণে এর পরিমাণ কম-বেশী হবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যাকাতুল ফিৎর হিসাবে মুসলমানদের ছোট-বড়, পুরুষ-নারী এবং স্বাধীন-ক্রীতদাস প্রত্যেকের উপর এক ছা‘ খেজুর অথবা এক ছা‘ জব ফরয করেছেন।[1]

অত্র হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছোট ও ক্রীতদাসের উপর যাকাতুল ফিৎর ফরয বলে উল্লেখ করেছেন। যাকাতুল ফিৎর ফরয হওয়ার জন্য নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া শর্ত হলে, ছোট ও ক্রীতদাসের উপর যাকাত ফরয হত না। কেননা সবেমাত্র জন্ম গ্রহণ করা সন্তানও ছোটদের অন্তর্ভুক্ত, যার নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। অনুরূপভাবে দাস সাধারণত নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় না। এজন্যই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দাসের উপর যাকাতুল ফিৎর ব্যতীত তার সম্পদের যাকাত ফরয করেননি। যেমন হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ فِيْ الْعَبْدِ صَدَقَةٌ إِلاَّ صَدَقَةُ الْفِطْرِ-

আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ছাদাক্বাতুল ফিৎর ব্যতীত ক্রীতদাসের উপর কোন ছাদাক্বাহ্ (যাকাত) নেই’।[2]

এছাড়াও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ধনী-গরীব সকলের উপর যাকাতুল ফিৎর ফরয বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,

أَدُّوْا عَنْ كُلِّ إِنْسَانٍ صَاعًا مِنْ بُرٍّ عَنِ الصَّغِيْرِ وَالْكَبِيْرِ وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى وَالْغَنِىِّ وَالْفَقِيْرِ فَأَمَّا الْغَنِىُّ فَيُزَكِّيْهِ اللهُ وَأَمَّا الْفَقِيْرُ فَيَرُدُّ اللهُ عَلَيْهِ أَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَى-

‘মানুষের মধ্যে প্রত্যেক ছোট-বড়, পুরুষ-নারী, ধনী-গরীবের নিকট থেকে এক ছা‘ গম (যাকাতুল ফিৎর) আদায় কর। আর ধনী, যাকে আল্লাহ এর বিনিময়ে পবিত্র করবেন। আর ফকীর, যাকে আল্লাহ এর বিনিময়ে তার প্রদানকৃত যাকাতুল ফিৎরের অধিক ফিরিয়ে দিবেন’।[3]

[1]. বুখারী হা/১৫০৩, ‘যাকাত’ অধ্যায়, ‘ছাদাকাতুল ফিৎর’ অনুচ্ছেদ; মুসলিম হা/৩৮৪; মিশকাত হা/১৮১৫।

[2]. মুসলিম হা/৯৮২; মিশকাত হা/১৭৯৫।

[3]. দারাকুতনী হা/২১২৭।