ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
পবিত্র বাইবেল পরিচিতি ও পর্যালোচনা দশম অধ্যায় - পবিত্র বাইবেল ও মুহাম্মাদ (ﷺ) ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)
(৬) গীতসংহিতা ৪৫/১-১৭

বাইবেলের অন্যতম পুস্তক Psalms, বাংলায় গীতসংহিতা, সামসঙ্গীত বা জবুর। এটা ইহুদি বাইবেলে ২৭ নং প্রটেস্ট্যান্ট বাইবেলে ১৯ নং এবং ক্যাথলিক বাইবেলে ২৩ নং পুস্তক। এ পুস্তকের ৪৫ গীতের শুরুতে দাউদ বলেন: ‘‘আমার হৃদয়ে শুভকথা উথলে উঠছে; আমি বাদশাহ্র বিষয়ে আমার রচনা বিবৃত করবো; আমার জিহবা দক্ষ লেখকের লেখনীস্বরূপ।’’ (জবুর ৪৫/১)। অনেক মুসলিম গবেষক দাবি করেন যে, দাউদের এ বর্ণনা মুহাম্মাদ (ﷺ) বিষয়ক ভবিষ্যদ্বাণী। বাদশাহ দাউদের মুখের এ ভবিষ্যদ্বাণী মুহাম্মাদ (ﷺ) ছাড়া আর কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে না। উইকিপিডিয়া এ প্রসঙ্গে লেখেছে: “Psalm 45:1-17 is a prophecy and a song of praise for the king. Several Muslim writers raised the argument that it is describing no one other than Muhammad for the following reasons...”

‘‘জবুর ৪৫/১-১৭ একটা ভবিষ্যদ্বাণী ও বাদশাহের প্রশংসার একটা গীত। অনেক মুসলিম লেখক যুক্তি প্রদান করেছেন যে, এ গীতে যার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তিনি মুহাম্মাদ (ﷺ) ছাড়া আর কেউ নন। তাদের যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:....

(ক) বাদশাহর প্রশংসায় সৌন্দর্য ও রহমতের সমন্বয় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: ‘‘তুমি মানুষের চেয়ে পরম সুন্দর; তোমার ওষ্ঠাধর থেকে রহমত ঝরে পড়ে। এজন্য আল্লাহ্ চিরকালের জন্য তোমাকে দোয়া করেছেন।’’ (জবুর ৪৫/২, মো.-১৩)। লক্ষণীয় যে, নবী ও ধর্মপ্রবর্তকদের মধ্যে একমাত্র মুহাম্মাদের অনুসারীরাই সর্বদা তাঁর নামের সাথে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’, অর্থাৎ ‘আল্লাহর দোয়া ও শান্তি তাঁর উপর’ বলেন। এভাবে তাঁর জন্য আল্লাহ চিরস্থায়ী দোয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

(খ) এরপর জিহাদ, ধার্মিকতা ও বিনম্রতার সমন্বয় বিষয়ে বলা হয়েছে: ‘‘হে বীর, তোমার তলোয়ার কোমরে বাঁধ, তোমার গৌরব ও মহিমা গ্রহণ কর। আর স্বীয় প্রতাপে কৃতকার্য হও, বাহনে চড়ে যাও, সত্যের ও ধামির্কতাযুক্ত নম্রতার পক্ষে, তাতে তোমার ডান হাত তোমাকে ভয়াবহ কাজ শেখাবে। তোমার সমস্ত তীর ধারালো, জাতিরা তোমার পদতলে পতিত হয়, বাদাশাহ্র দুশমনদের অন্তর বিদ্ধ হয়।’’ (জবুর ৪৫/৩-৫, মো.-১৩)

(গ) বাদশাহর অনেক স্ত্রী থাকবেন এবং তাদের মধ্যে শাহজাদীরা থাকবেন: ‘‘তোমার মহিলারত্নদের মধ্যে শাহ্জাদীরা আছেন, তোমার ডান দিকে দাঁড়িয়ে আছেন রাণী, ওফীরের সোনা দিয়ে সেজে আছেন’’ (জবুর ৪৫/৯, মো.-১৩)।

আয়েশা (রা) ও হাফসা (রা) ছিলেন পরবর্তী দু বাদশাহ আবু বকর (রা) ও উমারের (রা) কন্যা। আর সাফিয়্যাহ বিনত হুআই (রা) ছিলেন খাইবারের ইহুদি শাসক হুআই ইবন আখতাবের কন্যা।

(ঘ) বাদশাহ দাউদ এ গীতে তাঁর নিজের কন্যাকে সম্বোধন করে যা বলেছেন তা খাইবারের ইহুদি শাসক হুআই ইবনু আখতাবের কন্যা সাফিয়্যাহর ক্ষেত্রে হুবহু প্রযোজ্য: ‘‘বৎস, শোন, দেখ, কান দাও; তোমার জাতি ও তোমার পিতৃকুল ভুলে যাও। তাতে বাদশাহ্ তোমার সৌন্দর্য বাসনা করবেন; কেননা তিনিই তোমার প্রভু, তুমি তাঁর কাছে সেজ্দা কর।’’ (জবুর ৪৫/১০-১১, মো.-১৩)।

কিতাবুল মোকাদ্দস-২০০৬-এর অনুবাদ: ‘‘হে কন্যা, শোন, মন দাও, কান খাড়া কর। তোমার লোকদের তুমি ভুলে যাও, ভুলে যাও তোমার পিতার বাড়ির কথা। তাহলে বাদশাহ তোমার সৌন্দর্যে ধরা দেবেন, তিনিই তোমার প্রভু, তাঁকে পায়ে ধরে সালাম কর।’’

(ঙ) দাউদ বলেছেন যে, এ বাদশাহকে দূরের বাদশাহ হাদিয়া পাঠাবেন: ‘‘টায়ার-কন্যা উপঢৌকন নিয়ে আসবেন, ধনী লোকেরা তোমার কাছে ফরিয়াদ করবেন।’’ (জবুর ৪৫/১২, মো.-১৩)। মিসরের শাসক মুকাওকিস মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে উপহার প্রেরণ করেছিলেন।

(চ) গীতটার শেষে বলা হয়েছে যে, তিনি ‘মহা-প্রশংসিত’ হবেন: ‘‘আমি তোমার নাম সমস্ত বংশ পরম্পরায় স্মরণ করাব, এজন্য জাতিরা যুগে যুগে চিরকাল তোমার প্রশংসা করবে।’’ (জবুর ৪৫/১৭, মো.-১৩)। এটি সুস্পষ্টভাবে ‘মুহাম্মাদ’ নামের প্রতি ইঙ্গিত করছে, যার অর্থ ‘অতি-প্রশংসিত’ বা ‘মহা-প্রশংসিত’।