ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
প্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত দ্বিতীয় অধ্যায় - সালাত (নামায) অধ্যাপক মোঃ নূরুল ইসলাম
প্র: ১৮০. মাইয়্যেত গোসলের বিধিবিধানগুলো কী কী?

মাইয়্যেত গোসলের বিধিবিধান নিম্নরূপ

১. তিন বা পাঁচ অথবা সাত, এমনকি প্রয়োজনে আরো অধিকবার দেহ ধৌত করাবে। তবে তা হবে বেজোড় সংখ্যায়। (বুখারী: ১১৭৫)

২. শরীর ধৌত করবে বেজোড় সংখ্যায় ।

 

৩. গোসলের পানির সাথে বরই গাছের পাতা (বা শ্যাম্পু বা সাবান) মিশিয়ে নেবে।(বুখারী: ১১৮৬)

৪. শেষবার ধৌত করার সময় পানির সাথে সুগন্ধি মিশিয়ে নেবে (নারী-পুরুষ) উভয়ের  ক্ষেত্রেই।

৫. হজ্জ-উমরার ইহরাম অবস্থায় থাকলে সুগন্ধি পানি বা দেহে সুগন্ধি লাগাবে না। (বুখারী: ১২৬৫, ১২৬৬)

৬. চুলের খোপা খুলে নিবে যাতে ভালোভাবে ধোয়া যায়।

৭. মাইয়্যেতের চুল আঁচড়িয়ে নেবে। (বুখারী: ১১৭৬)

৮. মাইয়্যেতের ডান দিক থেকে দেয়া শুরু করবে, আর প্রথমেই ধুবে ওযুর অঙ্গগুলো।

৯. নারীর চুলে ৩টি বেণী করবে এবং বেণীগুলো পেছনের দিকে দিয়ে দেবে। (আহমাদ ৫/৮৪-৮৫)

১০. মাইয়্যেতের শরীরকে একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে সেই কাপড়ের নিচ দিয়ে তার পরিধেয় কাপড়গুলো খুলে ফেলবে। হাতে অপর এক টুকরা কাপড় নিয়ে গোসল করাবে।  (আহমাদ: ২৫৭৭৪) যাতে গোসলদাতার হাত মাইয়্যেতের লজ্জাস্থান স্পর্শ না হয়। আর পুরুষের নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত পুরুটাই লজ্জাস্থান হিসেবে গণ্য। অপরদিকে নারীরা স্বভাবগতভাবে যতটুকু অংশ লজ্জাস্থান মনে করে সেটাই লজ্জাস্থান।

১১. পুরুষেরা পুরুষের এবং নারীরা নারীর গোসল দেবে।

১২. তবে স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী তার স্বামীকে গোসল করাতে পারবে। (ইবনে মাজাহ: ১৪৫৩, ১৪৫৪, ইবনে আবি শাইবা: ১০৯৬৯, ১০৯৭০)

১৩. শরীআ জ্ঞান সম্পর্কে অধিক অবগতকারী এবং যার আমল-আখলাক ভালো এমন ব্যক্তিই গোসল দেওয়া উত্তম। তাছাড়া নিকটাত্মীয়দের মধ্যে থেকে হলে আরো ভালো।

১৪. মাইয়্যেত গোসল দেওয়ার পর গোসলদাতা গোসল করা সুন্নাত, কিন্তু ওয়াজিব নয় । রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা যখন মুর্দাকে গোসল দাও তখন তোমাদের জন্য গোসল জরুরি নয়। কেননা, তোমাদের মুর্দাতো নাপাক নয়। সুতরাং কেবল হাত ধুয়ে নেওয়াই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (হাকেম- ১/৩৮৬, বায়হাকী- ৩/৩৯৮)

১৫. জিহাদের ময়দানে নিহত শহীদের গোসল দিতে হয় না, যদিও গোসল ফরজ হওয়ার কোন কারণ তার মধ্যে ঘটে থাকুক না কেন অর্থাৎ যদিও সে অপবিত্র অবস্থায় প্রাণ হারায়। উহুদ যুদ্ধে শহীদ হওয়ার দিন হানযালা (রা.) নাপাক ছিলেন এবং নিহত হওয়ার পর ফেরেশতারা তাকে গোসল দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) শহীদদেরকে গোসল দিতে নিষেধ করেছেন। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় হাশরে উঠবে এবং তাদের দেহে থাকবে মিশকআম্বরের ঘ্রাণ। (বুখারী: ১২৬০, হাকেম- ৩/১৯৫) উহুদ যুদ্ধের শহীদদের গোসল দেওয়া হয়নি। রক্তমাখা দেহে তাদেরকে দাফন করা হয়েছিল। (আবু দাউদ: ২৭২৮)

১৬. সাত বছরের কম বয়সী বালক-বালিকার লাশ নারী বা পুরুষ যে কেউ গোসল দিতে পারবে। (আলবিজাযাহ পৃ. ৭৫)

১৭. শিশুর লাশ ঋতুবতী মহিলারাও গোসল দিতে পারবে। (মুগনী)

১৮. চার মাসের কম সময়ের গর্ভপাতজনিত সন্তানের গোসল, কাফন ও জানাযা নেই। এর বেশি হলে আছে এবং তার নামও রাখতে হবে, আকীকাও দিতে হবে।(শরহুল মুমতি- ৫/৩৭৪)