সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি পরিকল্পনা করেন ও সঠিক পথের হিদায়াত দেন এবং মাতৃগর্ভে নিক্ষিপ্ত শুক্র বিন্দু থেকে নারী-পুরুষ যুগল সৃষ্টি করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তার কোনো শরীক নেই। সূচনা ও সমাপ্তিতে তার জন্যই সকল প্রশংসা। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তাকে যখন আসমানে নিয়ে যাওয়া হয় তিনি স্বীয় রবের বড় বড় অনেক নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন। সালাত ও সালাম প্রেরিত হোক বিশেষ গুণ ও বৈশিষ্ট্যের ধারক তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর... নারীদের প্রকৃত মর্যাদা প্রদানকারী দীন একমাত্র ইসলাম। ইসলাম তাদের অনেক বিষয়কে বিশেষ গুরুত্বসহ গ্রহণ করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো শুধু নারীদের উদ্দেশ্য করেই উপদেশ প্রদান করতেন। ‘আরাফার ময়দানে তিনি নারীদের ওপর পুরুষদের হিতাকাঙ্ক্ষী হতে বলেন, যা প্রমাণ করে নারীরা বিশেষ যত্নের দাবিদার। বিশেষভাবে বর্তমানে যখন মুসলিম নারীদের সম্মান হরণ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান থেকে বিচ্যুত করার নিমিত্তে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অতএব, তাদের সচেতন করা ও তাদের সামনে মুক্তির নির্দেশনা স্পষ্ট করার বিকল্প নেই।

বক্ষ্যমাণ গ্রন্থ মুসলিম নারীদের সামনে সে নির্দেশনা স্পষ্ট করবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। গ্রন্থখানা ক্ষুদ্র প্রয়াস ও দুর্বল ব্যক্তির পক্ষ থেকে সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র, আল্লাহ স্বীয় কুদরত মোতাবেক তার দ্বারা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ সাধন করবেন একান্ত আশা। এ ময়দানে এটিই প্রথম পদক্ষেপ, আশা করা যায় পরবর্তীতে আরো ব্যাপক ও বৃহৎ পদক্ষেপ করা হবে, যা হবে আরো সুন্দর ও আরো পরিপূর্ণ। আমি এখানে যা পেশ করছি তার পরিচ্ছেদসমূহ নিম্নরূপ:

১. প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণ বিধান।

২. দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর শারীরিক সাজ-সজ্জা সংক্রান্ত বিধান।

৩. তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হায়েয, ইস্তেহাযাহ ও নিফাস সংক্রান্ত বিধান।

৪. চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পোশাক ও পর্দা সংক্রান্ত বিধান।

৫. পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নারীর সালাত সংক্রান্ত বিধান।

৬. ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নারীর জানাযাহ সংক্রান্ত বিধান।

৭. সপ্তম পরিচ্ছেদ: নারীর সিয়াম সংক্রান্ত বিধান।

৮. অষ্টম পরিচ্ছেদ: নারীর হজ ও উমরাহ সংক্রান্ত বিধান।

৯. নবম পরিচ্ছেদ: দাম্পত্য জীবন ও বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিধান।

১০. দশম পরিচ্ছেদ: নারীর সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষা সংক্রান্ত বিধান।

লেখক